বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার
এসির দিন শেষ হতে যাচ্ছে, হাতির চামড়ার আদলে তৈরি টাইলসই ঘর ঠান্ডা রাখতে পারে
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ০৯:৫৫, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৭, ২৭ জুলাই ২০২৬
হাতির চামড়ায় পানি ধরে রাখতে অসংখ্য জালিকা থাকে
হাতির চামড়া দেখতে অনেকটা ফাটল ধরা বিস্তীর্ণ মাঠের মতো। যেখানে ফাটলের মাঝে পানি আটকে থাকে। সেই চামড়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি কমদামি সিমেন্টের টাইলস তৈরি করেছেন। এই টালি, হাতির চামড়ার মতো পানি ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত করে ভবনকে শীতল রাখে।
প্রচণ্ড গরমের দিনে ঘাম থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়। ত্বকের উপর জমে থাকা পানির ক্ষুদ্র কণা বাষ্পীভূত হওয়ার সময় যে তাপ দরকার হয়, সেটা শরীর থেকে নেয়। এতে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়। কিন্তু হাতির এ সুবিধা নেই। আফ্রিকান হাতির গায়ের রং গাঢ় ধূসর। কয়েক ইঞ্চি পুরু তার চামড়া। তারপরও এই প্রাণি তীব্র গরম সহ্য করতে পারে। এই প্রক্রিয়াটিই ব্যবহার করা হয়েছে টালিতে। হাতি পানিতে নামলে পুরো শরীরে পানি ছিটায়। এই পানি তার চামড়াতেই থেকে যায়। তার চামড়ায় বলিরেখার মতো অসংখ্য ফাটলের একটি জালিকা আছে, যা পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। আটকে থাকা পানি ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়ে তাদের শরীর ঠান্ডা রাখে।
কি আছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক প্রকল্প গোল্ডেন ডোমে?
কম্প্রেসার ছাড়াই শীতলীকরণের সুবিধা
ইনফ্রারেড তাপ প্রয়োগ এবং নিয়মিত পানি দেয়ার ফলে টাইলসগুলির নীচের অংশ যেটি ভবনের ভেতরের দিকে থাকবে, তার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিতিশীল ছিল। সূর্যের তাপের কারণে বাইরের দিকের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে ওঠে। অথচ ফাটলহীন টাইলসে বাইরের তাপমাত্র উঠে যায় ৫২ ডিগ্রিতে।
যান্ত্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে এবং ভেতরের উষ্ণতা বাইরে ছেড়ে দিয়ে বাইরের তাপ বাড়ায়। নতুন উদ্ভাবিত টাইলস একটি সত্যিকারের নিষ্ক্রিয় ব্যবস্থা যা ভবনের বাইরের দিককেই শীতল করে।
৬ মাসে ৩ হাজারের বেশি অনলাইন জুয়ার সাইট বন্ধ
ফাটলগুলোকে পানি প্রবাহের জালিকায় পরিণত করা
আটকে রাখা পানি বাষ্পীভূত করে তাপ কমানোর প্রক্রিয়া তাত্ত্বিকভাবে সহজ। কিন্তু গবেষকদের কাজটি ছিল কঠিন। কারণ বেশিরভাগ নির্মাণ সামগ্রী এ কাজে একেবারেই অদক্ষ, কার্যকরভাবে ঠান্ডা করার আগেই পানির ফোঁটাগুলো জমাট বেঁধে যায়, ছিটকে পড়ে অথবা সোজা গড়িয়ে পড়ে।
প্রতিটি ফোঁটার শীতল করার ক্ষমতা সর্বোচ্চ করার জন্য সেটিকে পরিচালিত করার একটি উপায় বের করার প্রয়োজন ছিল দলটির। একারণেই তারা ফাটলের ধারণা মাথায় নেন।
প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতিতে ফাটল মানে ভবনের দুর্বলতা। তাই কোথায় এবং কীভাবে ফাটলগুলো তৈরি হবে তা প্রকৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন গবেষকরা। এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালীর এমন এক জালিকা তৈরি হয়, যা পৃষ্ঠতল জুড়ে পানি টেনে নিয়ে তাকে যথাস্থানে ধরে রাখতে সক্ষম।
গবেষকদের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় সাধারণ সিমেন্ট এবং জীবাশ্মীভূত শৈবাল থেকে তৈরি ডায়াটোমেশিয়াস আর্থ (ডিই) নামের ছিদ্রযুক্ত উপাদানের মিশ্রণ দিয়ে। পাতলা টাইলসের আকারে ঢালাই করে এবং আংশিকভাবে পানি শোষণ করতে দেয়ার পর, উপাদানটিকে সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে শুকানো হয়। এটি সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে, পূর্ব-পরিকল্পিত নকশা বরাবর চাপ তৈরি হয় এবং মুক্ত হয়, যা এলোমেলো ফাটলের পরিবর্তে একটি পূর্বাভাসযোগ্য ফাটলের জালিকা তৈরি করে।








