চীনের বিজ্ঞানীদের বাজিমাত
সাগরের ১০ মিটার গভীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম বিশেষ সৌরকোষ
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১৫:৪৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা এতদিন স্থলভাগ কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরেই ছিল। এবার সাগরের পানির নিচেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ সৌরকোষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরেও কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষকেরা এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন।
পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা কোথায়
পানির গভীরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ করে লাল ও ইনফ্রারেড আলোর বড় একটি অংশ পানিতে শোষিত হয়ে যায়। ফলে প্রচলিত সৌরকোষ পানির নিচে ব্যবহার করলে পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না।
গবেষকেরা এই সমস্যার সমাধানে ওয়াইড-ব্যান্ডগ্যাপ পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের সৌরকোষ পানির নিচে তুলনামূলকভাবে বেশি পৌঁছানো নীল থেকে কমলা রঙের আলোর অংশ কাজে লাগাতে পারে।
রোবটরা শুধু ভিডিও দেখে মাত্র ২৯ সেকেন্ডে নতুন কাজ শিখতে পারে
দীর্ঘ সময়েও কার্যক্ষমতা ধরে রাখার দাবি
গবেষণার অংশ হিসেবে সৌরকোষগুলোর স্থায়িত্বও পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নাইট্রোজেন গ্যাসে ৩০০ দিন সংরক্ষণের পরও সৌরকোষগুলো তাদের প্রাথমিক কার্যক্ষমতার প্রায় ৯৬ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সমুদ্রের প্রায় ১০ মিটার গভীরতার পরিবেশ অনুকরণ করে ১ হাজার ১৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা চালানো হয়। এ সময়েও সৌরকোষগুলোর কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি।
সমুদ্রের পানিতে বাস্তব পরীক্ষা
শুধু গবেষণাগারে পরীক্ষা চালিয়েই থেমে থাকেননি গবেষকেরা। ছোট আকারের সৌরকোষকে বড় মডিউলে রূপ দিয়ে পানির নিচে চলাচলকারী একটি রোবটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এরপর দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপপুঞ্জের কাছে প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় প্রযুক্তিটির বাস্তব পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় সৌরকোষগুলো পানির নিচে থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়।
গবেষকদের হিসাবে, মাত্র দুই ঘণ্টা পানির নিচে আলো পাওয়ার সময় বড় আকারের সৌর মডিউলগুলো ৩২৪ মিলিওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ তৈরি করে।
পাওয়ারের কাঁচ লাগানো যাবে মেটার স্মার্ট গ্লাসে, বাড়ছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি
ব্যবহার হতে পারে পানির নিচের রোবট ও সেন্সরে
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে সমুদ্রের পানির নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করা বিভিন্ন যন্ত্রে। ভবিষ্যতে সৌরকোষগুলো পানির নিচের সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় রোবটে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে, এসব যন্ত্রের ব্যাটারি বারবার পরিবর্তন কিংবা ওপর থেকে আলাদা করে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন কমতে পারে।
প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে। আরও গভীর পানিতে সৌরকোষগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় সমুদ্রিক পরিবেশে এগুলোর স্থায়িত্ব কেমন থাকে, সেটিও যাচাই করতে চান চীনা গবেষকরা।








