নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইডটকো ও ফ্লোসোলারের চুক্তি
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৬:২৬, ৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৩৫, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ইডটকো বাংলাদেশ এবং ফ্লোসোলার সলিউশনস একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে
দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ এবং ফ্লোসোলার সলিউশনস একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায়, ইডটকো-এর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়তার লক্ষ্যে গ্রিড-সংযুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা যৌথভাবে যাচাই ও মূল্যায়ন করবে প্রতিষ্ঠান দুটি।
ইডটকোর টেলিকম টাওয়ার অপারেশন্স এ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য, যা প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী কার্যদক্ষতা বাড়াবে।
এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ইডটকোর অপারেশন্স ব্যবস্থায় সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্থান নির্ধারণ, গ্রিড সংযোগ এবং প্রকল্প উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে ফ্লোসোলার। অন্যদিকে, ইডটকো উপযুক্ত সাইট চিহ্নিতকরণ এবং বিদ্যুতের চাহিদার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করবে।
ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিসর প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব অবকাঠামোয় কীভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সেটিও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে এটি আমাদের টাওয়ার অপারেশন্সকার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের সংযোগব্যবস্থা হতে হবে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই।
ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, টেলিকম নেটওয়ার্ক দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তাই এর বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা স্মারক ইডটকো ও ফ্লোসোলারকে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্কে পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পরিকল্পিত কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হবে এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন, যা আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব।
এআইয়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত শিক্ষায় অগ্রাধিকার
প্রস্তাবিত এই মডেলটির মাধ্যমে ইডটকো বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোতে কোনো প্রারম্ভিক মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ পাবে, যেখানে ফ্লোসোলার সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও অর্থায়নের দায়িত্ব পালন করবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং চূড়ান্ত বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি সাপেক্ষে, এই মডেলটি জ্বালানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারবে।
প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতা থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যেতে পারে। তবে এই হিসাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রকল্পের ধরন, প্রযোজ্য গ্রিড নিঃসরণ সূচক এবং গ্রিডের বিদ্যুতের প্রতিস্থাপিত পরিমাণের ওপর।













