চলতি বছর হামলা ৭২৩টি
সাইবার হামলায় বিপর্যস্ত জাপানের কোম্পানি, গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১২:৫৯, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার হামলায় বিপর্যস্ত জাপানের কোম্পানি, গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
চলতি বছর জাপানে সাইবার হামলার ঘটনা গেল দুই বছরে ঘটে যাওয়া সাইবার হামলাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাইবার হামলায় অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাপানের কয়েকটি কোম্পানি।
দেশটির ইন্টারনেট সেবা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এসব হামলার প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাপানের জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সেবায় সাইবার হামলার পর অননুমোদিত প্রবেশের কারণে গ্রাহকদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
পাশাপাশি সব গ্রাহককে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩২ ডলার) করে দেওয়া হবে। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাতোশি কুমাগাই।
হামলার ঘটনায় জিএমও জাপান সরকারের কাছে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে। চলতি মাসে চালু হওয়া এ ব্যবস্থার আওতায় সাইবার হুমকি মোকাবিলায় শত্রুভাবাপন্ন সার্ভারে পাল্টা আঘাত করে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
জিএমও জানিয়েছে, হামলার চালিয়েছে বলে একটি পক্ষ অর্থ দাবি করছে। দাবি পূরণ না করলে প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশের হুমকিও দিয়েছে তারা। তবে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিএমও।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের জন্য ছয় মাস বিনামূল্যে বিকল্প সেবাও চালু করবে তারা। তবে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে আয়ের ওপর কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
গত শুক্রবার থেকে জিএমওর শেয়ারের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে টোকিওর প্রধান শেয়ারবাজার সূচক বেড়েছে ০.৩ শতাংশ।
এদিকে জাপানে এ বছর ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৭২৩টি সাইবার হামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডএআই। এ সংখ্যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরো বছরের হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে পিএইজপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর জাপান, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ে। বহু সেবায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ বার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা এবং ফিশিং হামলার বার্তা তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করায় সাইবার অপরাধ আরও দ্রুত, সস্তা ও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাইড শেয়ারিং সেবা টাইমস পরিচালনাকারী পার্ক২৪ শুক্রবার জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ৩ হাজার ইয়েন করে দেওয়া হবে। নিবন্ধন যাচাই শেষ হওয়ার পর থেকে গ্রাহকের ছবি সংরক্ষণ না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হামলার প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের ৫৫০ কোটি ইয়েন (প্রায় ৩৫ কোটি ডলার) বিশেষ লোকসান হতে পারে।
মুডিস রেটিংসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত সাইবার প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করে ঝুঁকি সামাল দিতে পারবে। তবে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়মিত দূর করতে যেসব প্রতিষ্ঠান
পিছিয়ে রয়েছে, তাদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় ডিজিটাল নেটওয়ার্কের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলার সুযোগ বেশি, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স













