অ্যাপল-ওপেনএআই বিরোধ
তথ্য চুরিতে অ্যাপলকেই দায়ী করছে ওপেনএআই
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১২:২৩, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য চুরিতে অ্যাপলকেই দায়ী করছে ওপেনএআই
সাবেক কর্মীদের মাধ্যমে কোনো গোপনীয় তথ্য চুরির প্রমাণ অ্যাপল দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেছে ওপেনএআই। বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অ্যাপল নিজেদের তৈরি করা সমস্যার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
সোমবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের মার্কিন জেলা আদালতে দেওয়া এক নথিতে এ দাবি করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই বিরোধটি পুরোপুরিই অ্যাপলের নিজেদের তৈরি জটিলতা এবং এখন তারা এর দায় অন্য সবার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
জুলাইয়ে ওপেনএআই এবং অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মী ট্যাং তান ও চ্যাং লিউয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে অ্যাপল। আদালতের নথি অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তা পর্যায়ের ডিভাইস তৈরির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হার্ডওয়্যার নকশা, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক গোপনীয়তা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন ওপেনএআই বলছে, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমাতে এবং কর্মীদের চাকরি ছাড়তে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই অ্যাপল এই মামলা করেছে। আদালতে দেওয়া নথিতে দুই প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, হার্ডওয়্যার উদ্যোগের জন্য অ্যাপল থেকে প্রায় ৪০০ কর্মী নিয়োগ করেছে ওপেনএআই।
ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই।
দুই বছর আগেও অ্যাপল ও ওপেনএআই অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছিল। এর লক্ষ্য ছিল চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর পরিধি বাড়ানো এবং এআই খাতে অ্যাপলকে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করা। তবে এআই শিল্পে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মামলাটি দুই কোম্পানির বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।
অ্যাপল তাদের মূল মামলায় দাবি করেছিল, ওপেনএআইয় প্রতিষ্ঠানে অ্যাপলের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য জানার একটি কৌশলের অংশ। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তান ও লিউ দুজনই অ্যাপল ছাড়ার পর কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিতে প্রবেশ করেছিলেন।
এর জবাবে ওপেনএআই বলেছে, অ্যাপল তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কাজের নথিতে প্রবেশ এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে। ফলে কোনো কর্মী প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সময় ব্যক্তিগত ও কোম্পানির তথ্য আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ওপেনএআই আরও বলেছে, অ্যাপলের নীতি অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে কোম্পানির ডিভাইস ফেরত দেওয়া, অভ্যন্তরীণ ফাইল কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা কিংবা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না।
আদালতে দেওয়া নথিতে চ্যাং লিউ বলেন, অ্যাপল ছাড়ার পর কোম্পানির নথিতে তার যেকোনো প্রবেশ সাবেক সহকর্মীদের ফাইল খুঁজে দিতে কিংবা অ্যাপলের কাজ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও অ্যাপলের কর্মীরা বারবার তার কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
অন্যদিকে, অ্যাপলে ২৪ বছর কাজ করা ট্যাং তান বলেন, প্রতিষ্ঠান ছাড়ার আগে তিনি অ্যাপলের প্রোটোটাইপগুলো ফেরত দিয়েছিলেন। নিজের কাছে রেখেছিলেন শুধু অগোপনীয় কিছু উপকরণ। এর মধ্যে ছিল কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার একটি চেকলিস্ট, যা গোপনীয় ছিল না।
ওপেনএআই বলেছে, অ্যাপলের মতো একটি প্রতিষ্ঠান, যারা এআই গ্রহণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখান থেকে কর্মীরা বেরিয়ে উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করা একটি আকর্ষণীয় স্টার্টআপে যোগ দিতে পারেন। অ্যাপলের হয়তো এসব সিদ্ধান্ত পছন্দ নয়। কিন্তু তারা এসব সিদ্ধান্তকে বেআইনি দাবি করতে পারে না। একই সঙ্গে নিজেদের অগোছালো প্রক্রিয়ার দায় অন্যদের ওপর চাপিয়ে নিজেদের তৈরি করা জটিলতার জন্য অন্যদের দোষারোপ করাও অযৌক্তিক।
সূত্র: রয়টার্স













