সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

| ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

এআই ব্যবসায় বিনিয়োগের ঝুঁকি

অপরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এআই ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা বাড়ছে

প্রকাশ: ১৮:৪৫, ১ নভেম্বর ২০২৬

অপরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এআই ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা বাড়ছে

অপরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এআই ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা বাড়ছে

এআই অবকাঠামো খাতে ঋণের চাপ, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং শেয়ারের দরপতনে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ছে নিওক্লাউড কোম্পানিগুলো। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ঋণ পরিশোধ ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সংকটে পড়তে পারে।

কোরউইভ ও নেবিয়াসের মতো প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় ‘নিওক্লাউড’ কোম্পানি। তারা বড় ডেটা সেন্টার পরিচালনা করে, যেখানে এআই তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে। অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই ও মেটার মতো প্রতিষ্ঠান এসব কম্পিউটার ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে।

তবে নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশ স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা হারাতে পারে। ফরেস্টারের বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আর্থিক সংকটে শিগগিরই অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেছেন, সামগ্রিক এআই ব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলনামূলক ছোট।

নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে অর্থায়ন করে। চুক্তি ও কেনা এআই চিপ জামানত রেখে ঋণও নেয় তারা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য কোয়ায়েট পিরিয়ডের বিশ্লেষক কোরি জনসন বলেন, কম্পিউটার সরঞ্জাম কেনার শুরুতেই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে এ খাতে ঋণের পরিমাণ বেশি।

এ খাতের বড় প্রতিষ্ঠান কোরউইভের ঋণের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। মাইক্রোসফট ও মেটার মতো গ্রাহকদের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি অনেক ছোট হলেও এর ঋণ বড় অঙ্কের। জনসনের মতে, ঋণদাতারা অনেক সময় কোরউইভের নিজস্ব আর্থিক অবস্থার চেয়ে বড় গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

গত এক মাসে কোরউইভের শেয়ারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। নেবিয়াস, আইরেন ও অ্যাপ্লায়েড ডিজিটালের শেয়ারদরও প্রায় একই হারে বা তার বেশি কমেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়া বিনিয়োগকারীরাও এখন বেশি মুনাফা চাইছেন। তবে কোরউইভের প্রধান নির্বাহী মাইক ইনট্রাটর বাজারের এ আচরণকে ‘অযৌক্তিক’ বলেছেন। তাঁর দাবি, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তাদের অবকাঠামো ও এআই সেবা নিতে আগ্রহী।

নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটির শুরু হয়েছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং দিয়ে। কোরউইভ ২০১৭ সালে ইথেরিয়াম মাইনিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। আইরেন, কোর সায়েন্টিফিক ও অ্যাপ্লায়েড ডিজিটালও একই খাত থেকে এসেছে। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআইয়ের চাহিদা বাড়লে তারা নতুন ব্যবসার সুযোগ পায়। অন্যদিকে রাশিয়ার সার্চ ইঞ্জিন ইয়ানডেক্সের সঙ্গে যুক্ত নেবিয়াস ২০২৪ সালে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের ওপর। সম্প্রতি মাইক্রোসফট ও গুগলের এআই খাতে বিনিয়োগের পূর্বাভাস ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে প্রভাব পড়েছে। এদিকে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই আগামী কয়েক মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের মতে, অর্থায়ন ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে ২০০টির বেশি নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না। তবে ইয়র্কভিল আইভসের বিশ্লেষকদের মতে, এখনো কম্পিউটিং ক্ষমতার চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি। বড় ডেটা সেন্টারগুলো যে চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ঘাটতি পূরণ করছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যায় যুক্তরাজ্যের এনস্কেলের সঙ্গে একটি চুক্তি বাতিল করেছে মাইক্রোসফট। এ সংকট ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফার্মাসও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের প্রকৃত উপকারিতা নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। সব মিলিয়ে এআই অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন