বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা
এআই ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৬:৩০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
এআই ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, ছয় বিভাগীয় শহরে উচ্চগতির রেল যোগাযোগেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপনে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর জাপান সফর নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানের পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বক্তব্যে এ সহায়তার বিষয়টি সম্ভাবনা ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিগ-বি) উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বক্তব্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে ও টেকসই উপায়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বক্তব্যে বলা হয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপান বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি উষ্ণ আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।













