বার্ষিক আয় থেকে জরিমানা
ক্ষতিকর ভিডিও দেখানোর অভিযোগে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর ব্যবস্থা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৪:১৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬
ক্ষতিকর ভিডিও দেখানোর অভিযোগে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর ব্যবস্থা
ব্যবহারকারীদের একই ধরনের ভিডিও বারবার দেখিয়ে কনটেন্টের চক্রে আটকে রাখার অভিযোগে টিকটককে প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এ সমস্যা সমাধানে প্ল্যাটফর্মটির ‘ফর ইউ’ ফিডের অ্যালগরিদম পরিবর্তনসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। অভিযোগের সমাধান না হলে টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউরোপীয় কমিশনের ভাষ্য, টিকটকের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীরা কোন ধরনের ভিডিও দেখছেন বা পছন্দ করছেন, তা বিশ্লেষণ করে একই ধরনের আরও ভিডিও সামনে আনে। এভাবে একসময় ব্যবহারকারীরা ‘র্যাবিট হোল’ বা একই ধরনের কনটেন্টের এমন এক চক্রে ঢুকে পড়েন, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন।
ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের অভিযোগ, এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে টিকটক এখন পর্যন্ত যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক অভিযোগ জানিয়েছে কমিশন। অভিযোগের সমাধান না হলে আগামী বছর বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
কমিশনের আশঙ্কা, বিষণ্নতা, একাকিত্ব কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে এমন ভিডিও বারবার দেখলে ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও কিশোরদের জন্য এ ঝুঁকি আরও বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনার দাবি জানাচ্ছে। কিছু দেশ অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। অন্য দেশগুলোও এ ধরনের পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে টিকটক। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কমিশনের বক্তব্যের বেশ কিছু অংশ মৌলিকভাবে ভুল। এতে টিকটকের প্ল্যাটফর্মের কাঠামো এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় নেওয়া উদ্যোগের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। টিকটকের দাবি, ব্যবহারকারীরা কী ধরনের ভিডিও দেখতে চান, তা নিয়ন্ত্রণের সহজ ও সরাসরি সুযোগ রয়েছে। কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর ব্যবস্থা আছে।
ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরকুনেন বলেন, টিকটকে কোনো ভিডিও স্ক্রল করা বা তাতে লাইক দেওয়ার পর অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীকে একই ধরনের আরও ভিডিও দেখাতে থাকে। এভাবে তাঁরা একপর্যায়ে কনটেন্টের চক্রে আটকে যান। শিশু-কিশোরসহ সব ব্যবহারকারীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে টিকটককে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
এ সমস্যা সমাধানে টিকটকের ‘ফর ইউ’ ফিডের অ্যালগরিদমের নকশা বদলানোর সুপারিশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। পাশাপাশি ভিডিও নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধাগুলো সহজ করা এবং অ্যালগরিদম নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
এআই নীতিমাল প্রণয়ন ও ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের
টিকটক নিয়ে আগের অভিযোগও তদন্তাধীন
ইইউর ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের (ডিএসএ) আওতায় টিকটকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। এ আইনে বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর ও অবৈধ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়।
টিকটক নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে নতুন অভিযোগগুলো সামনে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপটির আসক্তি তৈরির মতো নকশা, শিশুদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং গবেষকদের তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করার অভিযোগ তুলেছিল কমিশন। সে সময় অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে টিকটক।
এদিকে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সুপারিশব্যবস্থাও ব্যবহারকারীদের একই ধরনের কনটেন্টের চক্রে আটকে রাখছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইউরোপীয় কমিশন। গত জুলাইয়ে প্ল্যাটফর্ম দুটির অতিরিক্ত ব্যবহার উৎসাহিত করে এমন কিছু ফিচার নিয়েও আপত্তি জানায় সংস্থাটি। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং বিরতিহীনভাবে স্ক্রল করার সুবিধা রয়েছে। এসব ফিচারে পরিবর্তন আনারও দাবি জানিয়েছে কমিশন।
দেশে কম ডেটা সেন্টার, বাড়ছে AI-এর চাপ













