বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

| ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইস্তাম্বুলে সম্মেলন

এআই বিভাজন না হওয়ার অঙ্গীকার সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৬:৫৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬

এআই বিভাজন না হওয়ার অঙ্গীকার সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী

এআই বিভাজন না হওয়ার অঙ্গীকার সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী

বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতের এআই বিভাজনে পরিণত না হয় এটাই বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার বলে জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।  

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলন এআই গভর্ন্যান্স ইন প্র্যাকটিস: প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন (AI Governance in Practice: Practical Use Cases, Institutional Capacity, Innovation at Scale and Global Cooperation)। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্যে তিনি একথা জানান।  
কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং তুরস্ক প্রজাতন্ত্র যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে। সম্মেলনটি শেষ হবে ৭ অক্টোবর। 

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এআই এখন আর কেবল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; এটি ইতিমধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। ‘মূল প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে আমরা কত দ্রুত এআই গ্রহণ করব; বরং আমরা কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে, দায়িত্বশীলভাবে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে এটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

এআই সুশাসনের জন্য তিনটি মৌলিক নীতির কথা বলেন মন্ত্রী। এগুলো হলো আস্থা ও বিশ্বাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তাঁর মতে, সরকারি খাতে এআইয়ের ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক। একই সঙ্গে প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, উপযুক্ত ডেটা গভর্ন্যান্স এবং সময়োপযোগী আইনি কাঠামো প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো একক দেশের কাছে সব সমাধান নেই। অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না। তিনি এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন