জাতিসংঘে রেহান আসাদ
সরকারি সেবার জন্য চালু হবে একক ডিজিটাল আইডি
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৩:০৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি সেবার জন্য চালু হবে একক ডিজিটাল আইডি
সরকারি সেবার প্রধান মাধ্যম হিসেবে একক ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে এইআই নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ।
জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিপিআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এই সাইড ইভেন্টে আসাদ বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল আইডি ও এআই নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
আসাদ বলেন, বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সময় লাগবে, তবে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআই কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়, বিশেষ করে সীমান্তের বাইরেও এসব ব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এআই কীভাবে ডিপিআইকে সহায়তা করতে পারে এবং ডিপিআই কীভাবে এআইনির্ভর সেবার ভিত্তি তৈরি করতে পারে, সেটিও আলোচনায় আসে।
নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড নিয়ে কাজ করছে বলে জানান আসাদ। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোডকে গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণ এবং পূর্ব আফ্রিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে পরিচয় যাচাইয়ে ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। ইইউর সাধারণ মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি সদস্যদেশ অন্তত একটি ওয়ালেট চালু করবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় যাচাই এবং দেশের বাইরেও ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন।
আসাদ বলেন, রুয়ান্ডার উদ্যোগের লক্ষ্য জন্মনিবন্ধন বা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহের মতো কাজে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন কমানো। একইভাবে আঞ্চলিকভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশেও নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে ডিপিআই ব্যবহারে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও আস্থার পাশাপাশি এআই কীভাবে নিরাপদভাবে এসব অবকাঠামো ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘের ডিপিআই সুরক্ষা উদ্যোগের লক্ষ্যও বড় পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুশাসনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি শুধু বাংলাদেশ বা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয় নয়; ভবিষ্যতে সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি।
বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আস্থা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।













