শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

| ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ড্রোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন

সীমান্তে নজরদারি সহজ করতে ব্যবহার হবে আধুনিক ড্রোন

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ২২:০৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্তে নজরদারি সহজ করতে ব্যবহার হবে আধুনিক ড্রোন

সীমান্তে নজরদারি সহজ করতে ব্যবহার হবে আধুনিক ড্রোন

দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকাসহ সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কার্যকর ও সহজ করতে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তরে সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (এসএসএসডিডব্লিউ) উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকায় সরেজমিনে জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর। এসব এলাকায় নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন,থার্মাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের তৎপরতা তদারকি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করাও সহজ হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু সীমান্তে নিরাপত্তা নয়, প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক,তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এই ড্রোন স্কুলে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। পরে বিজিবির দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন