শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

| ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কর ছাড়ের সুবিধা

উদ্ভাবক ও গবেষকদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার পরিকল্পনা

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ২২:৩৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদ্ভাবক ও গবেষকদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার পরিকল্পনা

উদ্ভাবক ও গবেষকদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার পরিকল্পনা

দেশের উদ্ভাবক ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণীতে নভোথিয়েটারে  অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬' এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। 

ড. রাশেদ আল মাহমুদ জানান, দেশে মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। 

বেসরকারি খাত বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অবদান রাখলে সরকার কর ছাড়সহ প্রয়োজনীয় রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও একক পণ্যনির্ভরতা থেকে বের হয়ে বহু পণ্যের রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে (Global Innovation Index) বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬। এই অবস্থান থেকে উত্তরণ করতে গবেষণা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন কেবল প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্ভাবন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজার ওমানেও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এবং সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার পথ সুগম করা হচ্ছে। এছাড়াও তরুণদের নতুন উদ্ভাবন ও মেধা বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ইনোভেশন ফেয়ার বা উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করার কথা ও জানান তিনি। 

গত তিন দিনে ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬৭১টি আবেদন থেকে দক্ষ প্যানেল দ্বারা মূল্যায়ন ও বাছাই করে ৫০টি সেরা নিবন্ধিত উদ্ভাবনী দলকে নির্বাচিত করে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। 

বিচারক প্যানেলের সিদ্ধান্তে সমাপনী দিনে ৫০টি উদ্বোধনের মধ্য থেকে ১০টি সেরা উদ্ভাবককে পুরস্কার হিসেবে এক লক্ষ টাকার চেক ও সনদ প্রদান করা  হয়। এছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার জন্য ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। মেলায় ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি স্টল ছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ, বিজ্ঞানী, শিল্প উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন