রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

| ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে তথ্য চেয়েছিল অফকম

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অফকমের বিরুদ্ধে মেটা, টিকটক ও এক্সের মামলা খারিজ

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৭:১৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অফকমের বিরুদ্ধে মেটা, টিকটক ও এক্সের মামলা খারিজ

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অফকমের বিরুদ্ধে মেটা, টিকটক ও এক্সের মামলা খারিজ

যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের বিরুদ্ধে করা আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে গেছে মেটা, টিকটক ও এক্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে অফকমের পাঠানো নোটিশকে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি করেছিল প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে শুক্রবার লন্ডনের হাইকোর্ট তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। ২০২৩ সালের অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট কার্যকরের পর যুক্তরাজ্যের নতুন অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষতিকর ও অবৈধ অনলাইন কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এ আইনের অন্যতম লক্ষ্য। মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেটা, টিকটক ও এক্সকে তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠায় অফকম। এতে প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে কতটি পোস্ট সরানো হয়েছে, কতটির প্রদর্শন সীমিত করা হয়েছে এবং কতজন ব্যবহারকারী ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।

তিন প্রতিষ্ঠানই অফকমের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের দাবি, এত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের নির্দেশনা নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রক চাপ তৈরি করবে। এক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া এটিই তাদের সবচেয়ে বড় তথ্য চাওয়ার ঘটনা। এ নির্দেশনা মেনে চলতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে বলেও দাবি করেছিল তারা।

তবে হাইকোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়াটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ—প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ের পর অফকমের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেটার এক মুখপাত্র আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তথ্য সংগ্রহের এই ব্যাপক পরিসর প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসংগত সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলেই মেটাসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ করেছিল। টিকটক জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে এক্স তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এদিকে অফকমের ফি ও সম্ভাব্য জরিমানা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে মেটার করা পৃথক মামলার রায় এখনো অপেক্ষমাণ। হোয়াটসঅ্যাপকে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়েও অফকমের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ মাসের শুরুতে ইনস্টাগ্রামের ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচার চালুর আগে যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মেটার বিরুদ্ধে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের অধীনে প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে অফকম।

সূত্র: রয়টার্স

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন