নিরাপত্তা জোরদারে একজোট হওয়ার আহ্বান
বিন্যান্সে বড় হ্যাকিং, নিরাপত্তা জোরদার করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৭:৪৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিন্যান্সে বড় হ্যাকিং, নিরাপত্তা জোরদার করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের নিরাপত্তাঝুঁকিও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বৃহস্পতিবারের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক এক্সচেঞ্জ ক্র্যাকেন জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের সুরক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে তারা।
বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রিপ্টো খাতে নিরাপত্তা জোরদারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রকেরা আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। ফলে ক্রিপ্টো খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা দিলে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটনের ক্রিপ্টো বিভাগের প্রধান ক্রিস পারকিনস বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে এ খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি করতে হবে।
বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিন্যান্স সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিজেদের তহবিল থেকে পূরণ করা হবে। বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রতিষ্ঠানের এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হামলাটি শুরু হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে হ্যাকাররা অর্থ উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।
পরে আরও কয়েকটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া হামলার প্রমাণ মুছে ফেলার সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণে তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কর্মীদের প্রতারণা করে গোপন তথ্য সংগ্রহ অথবা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশের অনুমতি নেওয়ার মতো কৌশল ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
হামলার পর চুরি করা অর্থ দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ বা টোকেন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সম্পদ জব্দ করার আগেই তা সরিয়ে ফেলা।
স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে তারা। আরেক প্রতিষ্ঠান সার্কেল জব্দ করেছে ৮০ কোটি ডলার। তবে বিটকয়েন ও ইথারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এগুলো সরাসরি জব্দ করা সম্ভব নয়।
ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিস জানিয়েছে, হ্যাকাররা অর্থ পাচারের জন্য এমন কিছু জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা আগে তাদের নজরে আসেনি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। শুক্রবার অবশ্য দুই মুদ্রার দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বিন্যান্স নিজস্ব অর্থ দিয়ে ক্ষতি সামাল দিতে পারবে। এ ঘটনায় বৃহত্তর আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও কম বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলায় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ওকেএক্সের প্রধান নির্বাহী স্টার শু। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সতর্ক করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এবং সন্দেহভাজন চুরি হওয়া সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দ করার সুযোগও থাকা প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স













