সরকারি অনুরোধে ব্যবহারকারীর তথ্য দেওয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে আইসের তৎপরতা, আপত্তি গুগল-মেটাসহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের
প্রকাশ: ১৭:৩৬, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে আইসের তৎপরতা, আপত্তি গুগল-মেটাসহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (আইস) পাঠানো অনুরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে গুগল, মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে সরকারের সমালোচকদের শনাক্ত করতে তথ্য চাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও তা নিয়ে আপত্তি তুলছে সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলো। সরকারি অনুরোধের জবাব দিতে দেরি করা, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং ব্যবহারকারীদের আগাম সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অধীন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গত এক বছরে ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, টিকটক ও এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে অভিবাসন অভিযান এবং সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে আইস। সংস্থাটি এসব কার্যক্রমকে তাদের কর্মকর্তা ও অভিযান পরিচালনার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহে আইস ব্যাপকভাবে প্রশাসনিক সমন (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাবপিনা) ব্যবহার করছে। এ ধরনের সমন সংস্থাটির কর্মকর্তারা নিজেরাই তৈরি ও অনুমোদন করতে পারেন। এর জন্য আগে থেকে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তির মুখে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডিএইচএস বিচার বিভাগের (ডিওজে) সঙ্গে সমন্বয় করে গ্র্যান্ড জুরি সমন জারি করছে। এসব সমন অমান্য করলে আরও কঠোর আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০টি সমন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বছরের পরবর্তী ছয় মাসেও প্রায় একই সংখ্যক সমন এসেছে। অন্যদিকে, মেটা জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের অনুরোধের ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্তত কিছু তথ্য সরবরাহ করেছে তারা।
সরকারি অনুরোধের জবাবে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাইছেন আইনপ্রণেতারা। এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য শ্রী থানেদার বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শপথ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে, কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, গ্রাহকদের গোপনীয়তা সুরক্ষায় তাদের কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। অতিরিক্ত বিস্তৃত বা অযৌক্তিক সরকারি তথ্যের অনুরোধ তারা প্রত্যাখ্যান করে। তবে সরকারি নজরদারি নিয়ে গুগল ও মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক চাপের উদ্বেগ রয়েছে। কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। বিশেষ করে গুগলের চলমান ফেডারেল অ্যান্টিট্রাস্ট মামলাগুলোতে বাড়তি নজরদারির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, আইসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সংস্থাটির সব কার্যক্রম প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুসারেই পরিচালিত হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া













