ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা
নিবন্ধন ছাড়া বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না
প্রকাশ: ১৪:৫৫, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৯, ২৬ জুলাই ২০২৬
নিবন্ধন ছাড়া বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারে বাধা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলসহ বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবেনা। একই সাথে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে। এমন শর্ত রেখে নতুন ‘ক্রস–বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬’–এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খসড়ার ওপর যে কেউ আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে মতামত দিতে পারবেন।
খসড়া অনুযায়ী, দেশের বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে চাইলে একই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের পর প্রচলিত আইন, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করে বিদেশি পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কেবল বৈধ পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ থাকবে। নতুন নীতিমালায় অনলাইন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ভোক্তাকে বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করতে পারে, এমন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বা সাধারণ ক্রেতাকে ঠকানোর ঝুঁকি তৈরি করে, এমন কোনো বিজ্ঞাপনও প্রচার করা যাবে না।
খসড়ায় দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) ডিজিটাল রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ নীতিসহায়তা, পার্সেলভিত্তিক রপ্তানির সুবিধা, বীমা ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল রপ্তানি আয়ের জন্য আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রসেসিং সেন্টার ও গুদাম অবকাঠামো গড়ে তুলতে নীতিগত সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়ায় আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আমদানি সহজ করতে ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি), ব্যবসা-টু-ভোক্তা (বি-টু-সি) ও বি-টু-বি-টু-সি মডেলের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অনলাইনে আমদানির মূল্যসীমা পুনর্বিবেচনা এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফেরত বা পুনরায় রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল বাণিজ্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধিত ডিজিটাল ব্যবসার রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং আমদানির মূল্য পরিশোধ সহজ করতেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।
অনলাইনে পণ্য কেনার পর পণ্য বা সেবার মান ঠিক না থাকলে ফেরত, মূল্য ফেরত, ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টির নিয়ম ক্রেতাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহ করা হলে তা ফেরত নেওয়া বা পরিবর্তন করে দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ক্রেতার টাকা ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
সরকারের এই নীতিমালার বড় লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি সহজ করা এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ানো। একই সঙ্গে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, তথ্য সুরক্ষা, ভোক্তার অধিকার এবং অনলাইন ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।













