ইইউকে শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
গুগলের জরিমানায় যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ তীব্র বাণিজ্য দ্বন্দ্ব
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৮:১০, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৪, ২৯ জুলাই ২০২৬
গুগল জরিমানায় যুক্তরাষ্ট্র -ইইউ বাণিজ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গুগলের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের অ্যান্টিট্রাস্ট জরিমানা আরোপের পর এবার পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইইউর বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে "অবৈধ ও অনৈতিক" আচরণ করছে। তিনি বলেন, এই কর্মকাণ্ডের জন্য ইইউকে "বড় মূল্য" দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে সেকশন ৩০১ তদন্ত শুরু করবে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশের বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি তদন্ত করে প্রয়োজনে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের জন্য কোনো 'পিগি ব্যাংক' নয়, এবং আমরা তা হতে দেব না।" তিনি ইঙ্গিত দেন, যত দ্রুত সম্ভব ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এর একদিন আগে ইউরোপীয় কমিশন ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘনের অভিযোগে গুগলকে মোট ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করে। কমিশনের ভাষ্য, সার্চ ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী সেবার পরিবর্তে গুগল ফ্লাইটস, গুগল হোটেলসসহ নিজেদের বিভিন্ন সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫৩ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া গুগল প্লে স্টোরের বাইরে অ্যাপ ডেভেলপারদের বিকল্প ও কম দামের অফার প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন বলেন, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ডিজিটাল বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেওয়া। ইউরোপীয় কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গুগল এখনও নিজেদের সেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে দ্বিতীয় জরিমানাটি মূলত ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গুগল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কেন্ট ওয়াকার বলেন, ইইউর এই সিদ্ধান্ত গুগল প্লের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। তার ভাষায়, "নিয়ন্ত্রণ এমন হওয়া উচিত যা পণ্যের উন্নতি ঘটায়, অবনতি নয়।"
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও ইইউর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এই পদক্ষেপ ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর একক কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় জরিমানা। ডিএমএ অনুযায়ী নিয়ম ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যায়। তবে ইইউ জানিয়েছে, গুগলের ক্ষেত্রে এবার আরোপিত জরিমানার পরিমাণ তাদের মোট বৈশ্বিক আয়ের মাত্র শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ।
কমিশন সতর্ক করেছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে গুগলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দৈনিক জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুগলকে ঘিরে এই বিরোধ শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: টি আর টি ওয়ার্ল্ড













