এআই বিজনেস সামিট ২০২৬
এআই নীতিমাল প্রণয়ন ও ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৭:০০, ৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬
এআই নীতিমাল প্রণয়ন ও ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের
জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই প্রযুক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে এআই ও মেশিন লার্নিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশকে শুধু এআই ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশে পরিণত করতে হবে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার না হয়ে সক্রিয় অংশীদার হওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রযুক্তিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের জাতীয় এআই নীতিমালায় নৈতিকতা, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআইয়ের অবদান প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে এআইয়ের কৌশলগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশীয় স্টার্টআপ ও গবেষকদের বিশেষ অনুদান, ইনকিউবেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা দিতে বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগও রয়েছে। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু করেছে আম্বার আইটি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জাতীয় এআই প্ল্যাটফর্ম এবং সমন্বিত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তরুণদের এআই, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকেরা নিজেদের এআই প্রকল্প তুলে ধরছেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা অংশ নেন।













