সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

| ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

আর্থিক খাতে সাইবার সুরক্ষা

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৬:৪১, ১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৪৫, ১ নভেম্বর ২০২৬

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলার ধরনও বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে নতুন সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সাইবার হামলা দ্রুত শনাক্ত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাকির হাসান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, শিগগিরই নীতিমালাটি তৈরি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা হালনাগাদ করবে।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগে থেকেই বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে। এ ছাড়া সাইবার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। নতুন ঝুঁকি তৈরি হলে সে অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরিবর্তন করতে হয়।

এর আগে গত ২৯ মার্চ আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আলাদা একটি কাঠামো প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের আনা হয়েছে। এ কাঠামো বাস্তবায়নের শেষ সময় ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এতে সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত ও মূল্যায়ন, গ্রাহকের তথ্য ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষা, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, হামলা মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেবা পুনরায় চালুর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিসেবা, নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এআই ব্যাংকের নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করলেও অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এআই দিয়ে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব। অন্যদিকে অপরাধীরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক বা পরিচিত ব্যক্তির নামে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা তৈরি, ফিশিং আক্রমণ ও পরিচয় জালিয়াতি করতে পারে। এতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক হিসাব ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায়ও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়। পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টায় ওয়েবসাইটটি আবার চালু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাসসকে জানান, এ সময়ে কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি এবং ডিজিটাল লেনদেনসহ ব্যাংকিং কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েনি।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়মিত নজরদারিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআইসহ নতুন প্রযুক্তির কারণে সাইবার হুমকি জটিল হচ্ছে। তাই নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরি ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা ও অনলাইন লেনদেনের ব্যবহার বাড়ায় গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বড় ধরনের সাইবার হামলায় সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তথ্য ফাঁস এবং ডিজিটাল লেনদেনের ওপর গ্রাহকের আস্থা কমতে পারে। তাই নতুন নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি হালনাগাদ, নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপরই আর্থিক খাতের সাইবার সুরক্ষার সাফল্য নির্ভর করবে।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন