সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

| ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা

কি ঘটেছিল বাইন্যান্সে? হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের বাইরেও অনেক কিছু

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ২০:৩৬, ১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৭, ১ নভেম্বর ২০২৬

কি ঘটেছিল বাইন্যান্সে? হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের বাইরেও অনেক কিছু

গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্সের বিভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে থাকা ওয়ালেট থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো সম্পদ সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকতে পারে। এর ফলে একটি সার্ভিস কনটেইনারে প্রবেশ করে অননুমোদিত অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠাতে সক্ষম হয় হামলাকারীরা। তবে এ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের কোনো ওয়ালেটের প্রাইভেট 'কি' ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 বিশ্বের ৭০ ভাগ ওয়েবসাইট বড় ঝুঁকিতে, পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে ঢোকার শঙ্কা

কারা এই হামলার শিকার?

বাইন্যান্সের প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় ঠিক কতজন ব্যবহারকারী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ক্রিপ্টো ওয়ালেটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। তাদের দাবি, ব্যবহারকারীদের অর্থ নিরাপদ আছে এবং কোনো ক্ষতি হলে তা প্রতিষ্ঠান নিজেই বহন করবে।

কীভাবে হামলার সূত্রপাত?

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওই ল্যাপটপের মাধ্যমে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকতে পারে।

তবে পরবর্তী তদন্তে একাধিক প্রবেশপথের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো একক কম্পিউটার বা একজন কর্মীর অনুমতির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সাধারণ হামলা ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রযুক্তিগত দিক এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

ক্ষতি পুষিয়ে দেবে বাইন্যান্স

ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি নেটওয়ার্কে লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস এবং নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এ জন্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্ষতি সামাল দেয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওও জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ

হামলার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান সম্পদ উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে। স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী টেথার প্রায় ১৫৫ কোটি থেকে ১৬০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ জব্দ করেছে। অন্যদিকে সার্কেল ৮০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে আটকে দেয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ চলছে।

এ ঘটনার প্রভাব ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও পড়েছে। বিটকয়েনসহ কয়েকটি প্রধান ডিজিটাল মুদ্রার দামে পতন দেখা গেছে।

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় নতুন উদ্বেগ

২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সাইবার হামলা হয়েছিল। তবে বাইন্যান্সের এবারের ঘটনা সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। আগের কয়েকটি বড় ক্রিপ্টো চুরির ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার ভিত্তিতে তারা এই মূল্যায়ন করেছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে বাইন্যান্সের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জও যে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, বাইন্যান্সের এই ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। একই সঙ্গে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা, লেনদেন অনুমোদন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন