কমছে উত্তোলনের চাপ
হ্যাকিংয়ের পর বিন্যান্স থেকে ৩৬৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো তুলে নিলেন গ্রাহকেরা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৬:২০, ২ নভেম্বর ২০২৬
হ্যাকিংয়ের পর বিন্যান্স থেকে ৩৬৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো তুলে নিলেন গ্রাহকেরা
৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনার পর বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। তবে অর্থ উত্তোলন শুরুর পর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে প্ল্যাটফর্মে নতুন করে অর্থ জমা দিচ্ছেন গ্রাহকেরাও।
সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছে বিন্যান্স। হামলার কারণে সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখার পর রোববার ধাপে ধাপে এ সেবা চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর প্রথম সাড়ে নয় ঘণ্টায় প্ল্যাটফর্মটি থেকে নিট ৩৬৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি তুলে নেন গ্রাহকেরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ উত্তোলন করেন। বিপরীতে নতুন করে জমা পড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ। বিন্যান্সের হিসাবে, এই নিট অর্থ উত্তোলন তাদের ব্যবস্থাপনাধীন মোট সম্পদের ২ দশমিক ১ শতাংশ।
তবে উত্তোলনের চাপ এখন কমে আসছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিন্যান্সের দাবি, শুরুতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে অর্থ জমাও পড়ছে। গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিন্যান্সের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৩৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি।
এদিকে বিন্যান্সে হামলার প্রভাব পড়েছে পুরো ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে। শুক্রবার বিটকয়েনের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। পরে দাম কিছুটা বাড়লেও সোমবার প্রতি বিটকয়েন ৭৮ হাজার ডলারের ওপরে লেনদেন হয়। ইথেরিয়ামের দামও দুই মাসের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
বাজারের অন্যান্য বিনিয়োগেও এর প্রভাব দেখা গেছে। শুক্রবার স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে ৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার তুলে নেন বিনিয়োগকারীরা। অক্টোবর মাসে এক দিনে এটিই ছিল সর্বোচ্চ অর্থ প্রত্যাহার। এ ছাড়া ১৩০ কোটি ডলারের বেশি লিভারেজভিত্তিক বিনিয়োগ বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যারি রেডবোর্ড।
রেডবোর্ড বলেন, এ ধরনের হামলা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। সাধারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হলে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মে হামলার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এতে অন্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিন্যান্স জানিয়েছে, হামলার ক্ষতি পূরণে নিজেদের করপোরেট তহবিল, বিমা তহবিল ও নিরাপত্তা তহবিল থেকে ৬০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে তারা। অন্যদিকে চুরি হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক স্টেবলকয়েনে ছিল, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জব্দ করেছে। এর মধ্যে স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সার্কেল ১১০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি জব্দ করার কথা জানিয়েছে।
এশিয়া ওয়েবথ্রি এআই অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে কোহ অবশ্য বিন্যান্স থেকে নিজের সব সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে নন। তাঁর মতে, লেনদেন ও বাজারে তারল্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এক্সচেঞ্জগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগের পরিমাণ পর্যালোচনা এবং একাধিক মাধ্যমে সম্পদ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, গোষ্ঠীটি এ হামলার সঙ্গে জড়িত। হামলার পর চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জব্দ করেছে। তবে বাকি অর্থ উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স













