স্বাভাবিক চোখের সীমাবদ্ধতাও কাটার আশা
দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে বায়োনিক চোখ নিয়ে গবেষণায় আরও অগ্রগতি
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১০:৪৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অনেক সায়েন্স ফিকশন মুভিতেই এমনটি দেখা গেছে। বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ স্বাভাবিক চোখের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আরও বেশি কিছু দেখতে পারছে। এবার সে কল্পনার কিছু অংশ বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে। দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের দেখার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তৈরি হচ্ছে বায়োনিক চোখ। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে দেখার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার অগ্রগতিও হয়েছে।
যেভাবে কাজ করে বায়োনিক চোখ
মানুষের চোখের পেছনে থাকা রেটিনা আলো শনাক্ত করে এবং সেই তথ্য স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়, এমনকি হারিয়েও যেতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে, চোখের ভেতরে ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক চিপ বসানোর প্রযুক্তি নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা চলছে। এই চিপ, ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করে।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ের বায়োনিক চোখে রোগীরা সাধারণত পূর্ণাঙ্গ ছবি দেখতে পারতেন না। বরং আলো ঝলকানো বা কোনো বস্তুর মোটামুটি আকার বোঝার মতো সীমিত অভিজ্ঞতা পাওয়া যেত। তবে এসব যন্ত্রের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে প্রাথমিক কয়েকটি প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।
নিজেই হাঁটতে পারে রোবটিক হাত, চাপতে পারে কিবোর্ডের বোতামও
নতুন প্রযুক্তিতে আশার আলো
পুরোনো পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটাতে গবেষকেরা এখন বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এর একটি পদ্ধতিতে, ক্যামেরা থেকে পাওয়া ছবি তার ছাড়াই মস্তিষ্কের দৃষ্টিসংশ্লিষ্ট অংশে বসানো চিপে পাঠানো হয়। এ পদ্ধতির সম্ভাব্য সুবিধা হলো, রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখ থেকে মস্তিষ্কে সংকেত বহনকারী অপটিক স্নায়ুতে সমস্যা থাকলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগতে পারে। তবে এভাবে কতটা স্পষ্ট ছবি তৈরি করা সম্ভব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠান রিভিশন ইমপ্লান্ট ২০২৬ সালের অক্টোবরে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে প্রথম মানবদেহে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার উদ্যোগ নেয়। পরীক্ষার ফলাফল কৃত্রিম দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কোডিং ছাড়াই গেম তৈরির সুযোগ দিচ্ছে গুগল
পরীক্ষায় ৮১ শতাংশ সাফল্য
বায়োনিক চোখের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে প্রাইমা নামের একটি প্রযুক্তিতে। এতে বিশেষ চশমা থেকে অবলোহিত বা ইনফ্রারেড সংকেতের মাধ্যমে ছবি ও শক্তি চোখের রেটিনার নিচে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বসানো একটি ক্ষুদ্র চিপে পাঠানো হয়। ড্রাই এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা এএমডি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর চালানো একটি ছোট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এ প্রযুক্তি আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া রোগীদের ৮১ শতাংশের কার্যকর কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে। এর ফলে তারা অক্ষর, সংখ্যা ও শব্দ পড়তে সক্ষম হন।
প্রযুক্তিটি ইউরোপের ৩০টি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রোগীরা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন। চিপ বসানোর জন্য জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং এতে ঝুঁকিও রয়েছে।
ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে ইনফ্রারেড ও তাপীয় ছবি
বায়োনিক চোখের বিশেষত্ব হলো, এতে দেখা দৃশ্য ইলেকট্রনিক সংকেতে রূপান্তরিত হয়। ফলে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ও বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে ছবির মান উন্নত করা, দূরের বস্তু বড় করে দেখা কিংবা দৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আরও স্পষ্ট করার মতো সুবিধা যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতের কিছু কৃত্রিম দৃষ্টিব্যবস্থায় দৃশ্যমান আলোর বাইরের তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত করতে সক্ষম ক্যামেরাও যুক্ত হতে পারে। এর ফলে রাতের অন্ধকারে দেখার মতো সুবিধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।











