বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

| ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশীয় যন্ত্রাংশের সংকট

রোবট তৈরির নতুন নিয়মে বিপাকে মার্কিন স্টার্টআপ

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৪:২৮, ২২ আগস্ট ২০২৬

রোবট তৈরির নতুন নিয়মে বিপাকে মার্কিন স্টার্টআপ

রোবট তৈরির নতুন নিয়মে বিপাকে মার্কিন স্টার্টআপ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়মে চাপে পড়েছে দেশটির রোবট নির্মাতা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো। চীনা রোবটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সম্প্রতি নতুন নিয়ম চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে হলে রোবট তৈরির ৬৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি হতে হবে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের দাবি, রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশন গত মাসে উন্নত রোবটকে নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করেছে। এর আওতায় মানবাকৃতির রোবট, চার পায়ের রোবট, রোবট ভ্যাকুয়াম ও ঘাস কাটার রোবটও রয়েছে। তবে নতুন নিয়মে রোবট তৈরির অন্তত ৬৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে হবে। এতে আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে এই হার বেড়ে ৭৫ শতাংশ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, চীন থেকে যন্ত্রাংশ না নিয়ে দ্রুত রোবট তৈরি করা কঠিন। অনেক যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় না। আবার কিছু যন্ত্রাংশ পাওয়া গেলেও দাম বেশি এবং আনতে বেশি সময় লাগে।

সান ফ্রান্সিসকোর কসমিকব্রেইন এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্টো প্যাট্রেক্স বলেন, তাদের রোবট তৈরির কাজে আগে চীনা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম মেনে চলতে হলে উৎপাদনের পুরো ব্যবস্থা বদলাতে হবে।

নিউইয়র্কের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেমার প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ উইলিয়ামসও চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে একইভাবে দ্রুত নতুন রোবটের নমুনা তৈরি করা এখনো কঠিন।

হিউস্টনের পারসোনা এআইও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালি থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনছেন। তবে নতুন নিয়ম মেনে দেশীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।

চীনের রোবট শিল্প শক্তিশালী হওয়ার পেছনে বড় কারণ উৎপাদন ব্যবস্থা, দক্ষ প্রকৌশলী ও কম খরচে যন্ত্রাংশ তৈরির সুবিধা। বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের বিকাশের কারণে চীনে সেন্সর, ব্যাটারি ও রোবটের নড়াচড়ার যন্ত্র তৈরির ব্যবস্থাও দ্রুত বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিয়মে প্রভাব পড়বে চীনের বাজারে।

গেলে ২০২৫ সালে বিশ্বে বিক্রি হওয়া মানবাকৃতির রোবটের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে তৈরি হয়েছিল বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গবেষণাগার ও নতুন রোবট প্রতিষ্ঠানও পরীক্ষার কাজে চীনের তৈরি রোবট ব্যবহার করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রোবট নির্মাতা নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতা কমলে যুক্তরাষ্ট্রে রোবটের যন্ত্রাংশ তৈরির নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে।

সান ফ্রান্সিসকোর নরি রোবটিকসের প্রতিষ্ঠাতা আন্তোনিও লি বলেন, নতুন নিয়ম গবেষক ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন রোবটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব রোবট শিল্প শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার বদলে ধীরে ধীরে শুল্ক বাড়ানো হলে মার্কিন রোবট শিল্পের জন্য ইতিবাচক। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই কঠোর নিয়ম চালু হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

 

তথ্য: রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড

 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন