সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

| ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবারের হাঁস ও স্ক্রু ডাইভার দিয়ে পরীক্ষা

হাতে ধরা বস্তু না ছেড়েই ঘুরিয়ে দিচ্ছে নতুন রোবট

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ০২:৪৪, ৫ অক্টোবর ২০২৬

হাতে ধরা বস্তু না ছেড়েই ঘুরিয়ে দিচ্ছে নতুন রোবট

রোবটের হাতে কোনো বস্তু তুলে দেয়া যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। বিশেষ করে কোনো বস্তু না ছেড়ে সেটিকে হাতে ঘুরিয়ে অন্য অবস্থানে নিয়ে যাওয়া রোবটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যার সমাধানে নতুন ধরনের নরম রোবটিক গ্রিপার তৈরি করেছেন স্পেনের গবেষকেরা। পরীক্ষায় গ্রিপারটি রাবার হাঁস, খেলনা, পানির বোতল থেকে শুরু করে স্ক্রু-ড্রাইভার পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বস্তু ধরে রেখে সেগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।

 নিজেই হাঁটতে পারে রোবটিক হাত, চাপতে পারে কিবোর্ডের বোতামও

শুধু ধরবে না, ধরেই ঘোরাবে

প্রচলিত অনেক রোবটিক গ্রিপারের মূল কাজ হলো কোনো বস্তু তুলে ধরা এবং শক্ত করে ধরে রাখা। কিন্তু বস্তুটি হাতে রেখেই তার অবস্থান পরিবর্তন করা তুলনামূলক কঠিন। নতুন গ্রিপারটির বিশেষত্ব এখানেই। এতে রয়েছে তিনটি নরম আঙুল। প্রতিটি আঙুলে রয়েছে তিনটি করে স্বাধীনভাবে নড়াচড়ার সুযোগ। আঙুলগুলো শুধু বাঁকতে পারে না, নিজেদের গোড়ার চারপাশে ঘুরতেও পারে।

তিন আঙুলের সমন্বিত নড়াচড়ার মাধ্যমে গ্রিপারটি কোনো বস্তু না ছেড়ে সেটিকে এক আঙুল থেকে অন্য আঙুলের দিকে গড়িয়ে দিতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার অবস্থান ঘুরিয়ে দিতে পারে।

মানুষের হাতের মতো স্বাভাবিক কাজ

গবেষকেরা বিষয়টিকে মানুষের হাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন, হাতে একটি বোতল নিয়ে সেটিকে না নামিয়েই ঘুরিয়ে লেবেল পড়া কিংবা কোনো বস্তু হাতে ধরে ঘুরিয়ে নেয়া মানুষের জন্য খুবই স্বাভাবিক কাজ।

কিন্তু রোবটের ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজ করতে একই সঙ্গে ধরার শক্তি, আঙুলের অবস্থান, ঘর্ষণ এবং বস্তুর আকৃতি বিবেচনা করতে হয়। নতুন গ্রিপারটি সেই জটিল সমন্বয় করার সক্ষমতাই দেখিয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের হাত হুবহু অনুকরণ করা এ গবেষণার লক্ষ্য নয়; বরং রোবটকে আরও দক্ষভাবে বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়া।

রাবার হাঁস থেকে স্ক্রু-ড্রাইভার

গ্রিপারটির সক্ষমতা যাচাই করতে গবেষকেরা বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও উপাদানের বস্তু ব্যবহার করেছেন। পরীক্ষায় ছিল পানির বোতল, ঘনক আকৃতির বস্তু, টিস্যুর প্যাকেট, ফিজেট স্পিনার, থ্রিডি-প্রিন্ট করা মূর্তি, রাবার হাঁস, বিভিন্ন নরম খেলনা, স্ক্রু-ড্রাইভার এবং কৃত্রিম গোলাপ।

বিভিন্ন ধরনের বস্তু ধরে রাখার পাশাপাশি গ্রিপারটি সেগুলোকে হাতের মধ্যে পুনরায় অবস্থান করতেও সক্ষম হয়েছে। কোনো বস্তু একবার ধরার পর সেটিকে নামিয়ে আবার নতুন করে ধরার প্রয়োজন হয়নি।

 ইউটিউবে টেক স্ক্রল

শিল্পকারখানা থেকে ল্যাবরেটরি

গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার অনেক বিস্তৃত। কোনো যন্ত্রাংশ জোড়া দেয়ার আগে সেটিকে নির্দিষ্ট দিকে ঘুরিয়ে নেয়া, অনিয়মিত আকৃতির বস্তু সরানো কিংবা ভঙ্গুর জিনিস নিরাপদে ধরার মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং ল্যাবরেটরির মতো ক্ষেত্রেও এ ধরনের নরম গ্রিপার কাজে লাগতে পারে। মানুষের কাছাকাছি কাজ করা রোবটের জন্যও প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

একটি আঙুল নষ্ট হলে পুরো গ্রিপার বদলাতে হবে না

নতুন গ্রিপারটির আরেকটি সুবিধা হলো এর মডুলার নকশা। তিনটি আঙুল আলাদাভাবে খোলা ও লাগানো যায়। ফলে একটি আঙুল নষ্ট হয়ে গেলে পুরো গ্রিপার পরিবর্তন না করে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বদলানো সম্ভব। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের নরম ও দক্ষ গ্রিপার রোবটকে শুধু বস্তু তোলা ও বহন করার যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের মতো সূক্ষ্মভাবে বিভিন্ন বস্তু নিয়ে কাজ করার সক্ষমতা দেবে।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন