চীনা গবেষক দলের উদ্ভাবন
ফুটবল মাঠে হিউম্যানয়েডের চমক, বল খুঁজে নিয়ে করছে গোল
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১২:২৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬
হিউম্যানয়েড রোবটের ফুটবল খেলার ভিডিও দেখেননি এমন প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষ কমই আছেন। তবে এবার গবেষকেরা এমন একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে রোবট শুধু বলের পেছনে ছুটছে না, বরং নিজের ভারসাম্য ঠিক রেখে বল খুঁজে বের করা, বলের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন দিক থেকে শট নেয়ার মতো জটিল কাজও করতে পারছে। গবেষকদের দাবি, হিউম্যানয়েড রোবটের বাস্তব জগতে চলাফেরা ও সমন্বয় ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইউশি ওয়াংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ফুটবলকে রোবটের দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়া হয়।
ফুটবল খেলার গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন পর্তুগিজ হ্যাকার
ফুটবল কেন এত কঠিন?
মানুষের জন্য ফুটবল একটি স্বাভাবিক খেলা হলেও হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য অত্যন্ত জটিল। একটি রোবটকে একই সময়ে চলন্ত বল শনাক্ত করতে হয়, নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করে দ্রুত শট নিতে হয়। তার ওপর রোবটের ক্যামেরায় সব সময় নিখুঁতভাবে বল দেখা যায় না। বল সাময়িকভাবে দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে পারে, আবার ক্যামেরার তথ্য পেতেও সামান্য দেরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে রোবটকে অনুমান করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ভার্চুয়াল পরিবেশে প্রশিক্ষণ
এ সমস্যার সমাধানে গবেষকেরা রোবটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে প্রথমে ভার্চুয়াল কম্পিউটার সিমুলেশনে প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার তথ্যের ভুল, বিলম্ব এবং বল সাময়িকভাবে শনাক্ত না হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এর ফলে রোবট শুধু ক্যামেরায় দেখা বলের ওপর নির্ভর না করে বল কোথায় থাকতে পারে, সেটিও অনুমান করতে শেখে। পরে এ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সরাসরি একটি অপরিবর্তিত হিউম্যানয়েড রোবটে ব্যবহার করা হয়।
গবেষকদের তৈরি ব্যবস্থাটি রোবটের ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্যকে সরল স্থানাঙ্কে রূপান্তর করে। ফলে রোবটটির জন্য বিপুল পরিমাণ ভিজ্যুয়াল তথ্য বিশ্লেষণ না করেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
গোল করার সাফল্য ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ
গবেষকেরা দেখতে পান, মাঠের সামনের অর্ধেক অংশের বিভিন্ন অবস্থান থেকে গোলপোস্টে বল পাঠানোর ক্ষেত্রে রোবটটি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ঘাস, অ্যাসফল্ট, রাবার ও মাটির মতো বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠেও ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করা হয়। আমরা রোবটের ফুটবল খেলার যেসব ভিডিও সাধারণত দেখে থাকি, নতুন গবেষণায় বলের কাছে পৌঁছে শট নিতে, সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত সময় কমাতে সক্ষম হয়েছে রোবট।
প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য
গবেষণাটি শুধু পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৫ সালে গবেষকদের তৈরি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সিংহুয়া হেফেস্টাস দল অংশ নেয় রোবোকাপ এডাল্ড সাইজ হিউম্যানয়েড লিগে। সেখানে দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়।
একই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ২০২৫ সালে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসেও তারা শিরোপা জেতে। দুই প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দলটি ৭৬টি গোল করে এবং বিপরীতে ১১টি গোল হজম করে।
সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ
সাফল্য এলেও রোবটের সক্ষমতার এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় রোবট মূলত বল ও গোলপোস্টের ওপর নজর দেয়। মাঠে থাকা অন্য রোবট, সতীর্থ কিংবা প্রতিপক্ষকে একই সঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার সক্ষমতা এখনও যুক্ত হয়নি। গবেষকদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো রোবটকে মাঠের অন্যান্য খেলোয়াড়ের অবস্থান ও গতিবিধি বুঝতে শেখানো। এতে ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট আরও জটিল ও গতিশীল পরিবেশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।










